কেন আমরা কান্না করি?

কেন আমরা কান্না করি? আবেগে আপ্লুত হয়ে, ব্যথা পেয়ে না কি আনন্দের আতিশয্যে? কিন্তু কেন? আমরা যেমন এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছেন তাবৎ দুনিয়ার বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরাও। কিন্তু এত এত বিজ্ঞানী কেউ আজও কারণ বের করতে পারেন নি বা একমত হতে পারেন নি যে, মানুষ কেন কাঁদে?
চার্লস ডারউইন একবার ঘোষণা করেছিলেন আবেগী কান্না “উদ্দেশ্যহীন”; এর দেড়শত বছর পরেও মানুষের এই কান্না করার বিষয়টি রহস্যজালে আবৃত রয়ে গেছে। যদিও প্রাণিকুলের মধ্যে কিছু প্রজাতি আঘাত পেলে চোখের অশ্রু ঝরায়, কিন্তু একমাত্র মানুষ আবেগে, অনুভূতিতে ও আনন্দে কেঁদে উঠে। কিন্তু কেন?
গবেষকরা অবশ্য কান্নার কারণ বের করতে গিয়ে শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ার তুলনায় আবেগ-অনুভূতির ওপর মনোযোগ দিয়েছেন বেশি। বিজ্ঞানীরা আবার আমাদের ভেতরের কোমলতার চেয়ে ভালোবাসার প্রতি আগ্রহী বেশি, বলেছেন বিশ্বের প্রথিতযশা কান্না বিশেষজ্ঞ নেদারল্যান্ড তিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যপক অ্যাড ভিনগারহোটস। তিনি “মানুষ কেন কাঁদে” শিরোনামে একটি বইও লিখেছেন।
কান্না শুধু দুঃখ-বিষাদ প্রকাশের লক্ষণই নয়, এটা এর থেকেও বেশি কিছু। সহানুভূতি দেখানো থেকে শুরু করে দুঃখ বা মানসিক কষ্ট থেকেও কান্নার উদ্রেক হয়। মোটা দাগে কান্না হল একটি সিগন্যাল যা অন্যরা দেখতে পায়। দেখে বুঝতে পারে আমাদের মানসিক অবস্থা।
শত শত বছর ধরে মানুষের ধারণা কান্নার উৎপত্তি হয় হৃদপিণ্ড থেকে। ১৬০০ সালে প্রচলিত এক তত্ত্বানুযায়ী জানা যায়, অনুভূতি-বিশেষ করে ভালোবাসার অনুভূতি-হৃদপিণ্ডকে উত্তপ্ত করে, আবার একে শীতল করার জন্য বাষ্পীয় পানিও তৈরি হয়।
অবশেষে ১৯৬২ সালে ডেনিশ বিজ্ঞানী নিল স্টেনসন প্রথম আবিষ্কার করেন, ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি থেকে কান্নার উৎপত্তি ঘটে।
কান্না সামাজিক বন্ধন তৈরি করে এবং মানুষের মাঝে সংযোগ তৈরি করে। আমরা জন্মের পরপরই কান্না শুরু করি অন্যদের সাথে সংযোগ তৈরি করার জjন্য। পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে উপকরণহীন অবস্থায়। তখন কান্নাই হয় একমাত্র ভরসা।
দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন রোটেনবার্গ কান্নার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‍”আমাদের মাঝে যখন এমন কিছু সমস্যার উদ্ভব ঘটে যার আপাতত কোনো সমাধান আমাদের কাছে থাকে না, তখন অন্যদেরকে সিগন্যাল দিতে আমরা কান্না করে থাকি।”
পেঁয়াজ কাটার সময়ও আমরা কান্না করি। কিন্তু এই কান্না আর আবেগে বা দুঃখের কান্নার মধ্যে আবার  রসায়নের তফাৎ রয়েছে। সাধারনত এনজাইম, লিপিড, মেটাবোলাইটস ও ইলেক্ট্রোলাইটস হল কান্নার উৎপাদক। কিন্তু আবেগ ও অনুভূতির কান্নায় অতিরিক্ত হিসেবে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে।
কান্নাবিষয়ক আধুনিক গবেষণা ও তত্ত্বগুলো এখনো অপরিপক্ক রয়ে গেছে। বিজ্ঞানী ভিনগার হোটস বলার চেষ্টা করেছেন, “মানুষের আচরণের ধরনের সাথে কান্না খুব প্রাসঙ্গিক। আমরা কাঁদি, কারণ আমাদের অন্যদের দরকার। আমরা কান্না করি, কারণ আমাদের সামাজিক বন্ধন দরকার।” সবশেষে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “ডারউনের ব্যাখ্যাটি ছিল পুরোপুরি ভুল।” ডারউইন বলেছেন, মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই কান্না করে।
রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে লিখেছেন মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ

আমাদের নিউজস্টোরি ভালো লাগলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন এ শেয়ার করুন। অন্যদেরকেও জানার সুযোগ দিন। আর এরকম আরো নিউজস্টোরি পেতে আমাদের পেজ এ লাইক দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *